রবিবার ৫ জুলাই ২০২৬ - ২১:০২
নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের পাঁচ দশক পেরিয়ে ইরানের সামরিক শক্তির উত্থান

নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের পাঁচ দশক পেরিয়ে ইরানের সামরিক শক্তির উত্থান

খামেনেয়ীর নেতৃত্বে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে আমেরিকা-ইসরায়েল

অর্থনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক প্রচারণার বিরুদ্ধে লড়াই করে কীভাবে ইরান নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরান, ৫ জুলাই ২০২৬: বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি ও অস্থিতিশীল বিনিময় হারের মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে ইরান নিজের সামরিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার মুখেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের নেতৃত্বে ইরান সম্প্রতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানানোর দাবি করেছে। যদিও এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ও ইরানের ঘোষণা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও পঞ্চাশ বছরের সংঘাত

ইরানের রিয়ালের মান গত কয়েক বছরে ব্যাপক পতন ঘটেছে। সরকারি বিনিময় হারে ১ মার্কিন ডলার প্রায় ৪২ হাজার রিয়াল হলেও অবৈধ বাজারে এই হার ৬ লাখ ছাড়িয়েছে—যা ব্যবহারকারীর উল্লিখিত ২৬ লাখ রিয়ালের কাছাকাছি।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানকে নানা নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইরান-ইরাক যুদ্ধ, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ—প্রায় পাঁচ দশক ধরে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংঘাতময়।

সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক দাপট

ইরান দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, ড্রোন ও আয়রন ডোমের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে সক্ষম একটি শক্তিশালী সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলেছে।

২০২৪ সালের এপ্রিলে ইসরায়েলের দামেস্কে কনস্যুলেটে হামলার প্রতিশোধে ইরান ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল দ্বারা ইসরায়েলে সরাসরি হামলা চালায়; যদিও ইসরায়েল ও তার মিত্ররা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করে, ইরান সেটিকে সফল বলে দাবি করে।

এছাড়া পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি বেশ কয়েকবার ইরানের ড্রোন উড়ে যাওয়া এবং মার্কিন জাহাজের সঙ্গে উত্তেজনার ঘটনাও ঘটেছে।

নেতৃত্বের বার্তা ও বিশ্ব প্রতিক্রিয়া

আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী সম্প্রতি দেওয়া এক ভাষণে জানিয়েছেন, ইরান কখনোই যুদ্ধ শুরু করবে না, তবে প্রতিরক্ষায় সক্ষম। তিনি পশ্চিমা গণমাধ্যমের ‘অপপ্রচার’ ও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত।

অন্যদিকে, আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক হুমকি নিয়ে তাদের সতর্কতা বারবার প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের দাবি অতিরঞ্জিত হলেও, দেশটির অপ্রতিসম যুদ্ধ কৌশল এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ভান্ডার মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। তবে অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ইরানের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক এই ঘোষণাগুলো ইরানের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সমর্থন বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক উত্তেজনাও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আগামী দিনে আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কী মাত্রা নেয়, তা এখনই বলা কঠিন। তবে খামেনেইয়ের নেতৃত্বে ইরান যে নিজের অবস্থান জোরদার করছে, তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha